আকাশ থেকে পাথরের বৃষ্টি!

সূরা মূলক-১৭
“না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন না, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।”

আকাশ থেকে পাথরের বৃষ্টি! এটাও কি সম্ভব? আকাশে পাথর কোথায়? পাথর যদি নাই থাকে তবে পাথরের বৃষ্টি বর্ষিত হবে কিভাবে?
তবে কি কোরআনে ভুল তথ্য সন্নিবেশিত হল? তবে কি অবিশ্বাসীদের দাবীই সত্য প্রমাণিত হল?

জবাব :

না কখনোই না। যেহেতু মহান রব মহাকাশে পাথরের অস্তিত্বের ইংগিত করেছেন সেহেতু পাথর থাকতেই হবে। মহাকাশে পাথর আছে বলেই তিনি পাথর বৃষ্টির ভয় দেখিয়েছেন।
১৪00 বছর আগে মানুষ দিনে দেখেছে মেঘমুক্ত নীল আকাশ, কখনো দেখেছে কাল মেঘ, কখনো দেখেছে শীলা বৃষ্টি! রাতে দেখেছে তারার মেলা। সেখানে অসংখ্য পাথরের উপস্থিতি ছিল তাদের কল্পনারও সীমানার বাইরে।
এমনই এক সময় আল্লাহ ঘোষণা করলেন –
“পাথর বৃষ্টির”!
এই আয়াত দেখে অবিশ্বাসীরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল, আর বিশ্বাসীরা বলল” আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম”!

অবশেষে ১৮০১ সালে উন্মোচিত হল এক মহারহস্য!
আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দু’টির কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টিরয়েড (Asteroid), মিটিওরিট (Meteorite) ও উল্কাপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলোকে এককথায় গ্রহানুপুঞ্জ বলা হয়। গ্রহানুপুঞ্জের এই বেল্ট (Belt) আবিষ্কৃত হয় ১৮০১ সালে। এক একটা ঝুলন্ত পাথরের ব্যাস ১২০ মাইল থেকে ৪৫০ মাইল।
এছাড়া রয়েছে KAIPER BELT আমাদের পৃথিবী থেকে ৩0 কোটি ৯0 লক্ষ কি মি দুরে অবস্থিত বরফ আর ধুলায় আচ্ছাদিত পাথরের রাজ্য।এখানে রয়েছে ১000 কি মি ব্যাসার্ধ সম্পূর্ণ পাথরের রাজ্য।

বিজ্ঞানীরা আজ পাথরের এই ঝুলন্ত বেল্ট নিয়ে শঙ্কিত। কখন জানি এ বেল্ট থেকে কোন পাথর নিক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, যা পৃথিবীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয় কিনা!