কোরআনের আয়াত বুঝা সহজ নয়!

কুরানের আয়াত (২:১) ‘আলিফ লাম মিম’ এর অর্থ কি সেটা কোন মুসলিমই জানে না !
তাহলে এটাকে কুরানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মানে কি যেখানে কুরানেই বার বার বলা হয়েছে যে তা সহজ ভাবে নাজিল হয়েছে যেন সবাই বুঝতে পারে (২:৯৯, ২:১১৮, ২:১৮৭, ২:২১৯, ২:২২১, ২:২৪২, ২:২৬৬, ৩:১০৩, ৩:১৩৮, ১২:২, ৪৩:৩, ৫৪:৩২, ৫৪:৪০, ৫৪:২২, ৫৪:১৭, ২৪:১৮) ?

 

জবাব:

আল্লাহ কু’রআনকে সহজ ভাষায় নাজিল করেছেন যাতে করে আমরা কু’রআন পড়ে সঠিক পথ পেতে পাড়ি। যেই আয়াতগুলো আমাদের সঠিক পথ পাবার জন্য অত্যাবশ্যকীয়, যেগুলো না বুঝলে আমরা জাহান্নামে চলে যাবো, সেগুলো আল্লাহ পরিস্কার আরবিতে বলেছেন। কিন্তু তিনি অনেক আয়াত রেখেছেন যেগুলো সঠিক পথ পাবার জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয় এবং সেগুলো না বুঝলে আমরা গুনাহগার হব না। সেই আয়াতগুলোতে বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতি ইত্যাদি নানা ধরণের তথ্য রয়েছে, যেগুলো সেসব বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা অন্যদের থেকে ভালো করে বুঝবেন।
পুরো কু’রআন এমন ভাবে লেখা হয়নি যে একজন রিকশাওয়ালা কু’রআন পড়ে যা বুঝবে আর একজন বিজ্ঞানী কু’রআন পড়ে ঠিক তাই বুঝবে। বিভিন্ন ধরণের পাঠকের জন্য কু’রআনে বিভিন্ন ধরণের আয়াত রয়েছে।

তবে যেই আয়াতগুলো না বুঝলে জীবনে ক্ষতি হবে, যেগুলো না মানলে আমাদের জাহান্নামে শাস্তি পেতে হবে, সেগুলো একদম পরিস্কার আরবি এবং সেগুলোর অনুবাদও পরিস্কার। ধর্মীয় নিয়ম-কানুনকে আল্লাহ পরিস্কার আরবিতে ব্যাখ্যা করেছেন।

আপনি যেই আয়াতগুলোর রেফারেন্স দিয়েছেন সেগুলোর কোনটাই বলে না যে পুরো কু’রআন এমন ভাবে লেখা হয়েছে যে সেটা যে কেউ পড়ে পরিস্কার বুঝতে পাবে। বরং আয়াতগুলোতে পরিস্কার করে বলা হয়েছে কারা আল্লাহর নিদর্শন (কু’রআনের আয়াত নয়) এবং আয়াতগুলো ঠিকভাবে বুঝবে। আপনি অপ্রাসঙ্গিক ভাবে কিছু আয়াত তুলে ধরেছেন। এর আগের এবং পরের আয়াতগুলো পড়ে দেখুন। বুঝতে পারবেন আল্লাহ কোন প্রসঙ্গে কাকে ‘পরিস্কার’ নিদর্শন বলেছেন।

ধরে নিচ্ছি আপনি জানেন না আরবিতে একবচন ‘আয়া’ অর্থ নিদর্শন, এবং বহুবচন ‘আয়াত’ অর্থ ‘কু’রআনের আয়াত’। কু’রআনে যত জায়গায় একবচন ‘আয়া’ এসেছে, তার প্রতিটি জায়গায় সঠিক অনুবাদ ‘নিদর্শন’ – আয়াত নয়।