কোরআনে বোরখা-হিজাব

কোরআনে বোরখা-হিজাব এর আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর বোরখা-হিজাব হচ্ছে পশ্চাৎপদতা ও নির্যাতন-নিপীড়ন এর হাতিয়ার!

জবাব:

আধুনিকতা বা সভ্যতার অর্থ যদি অর্ধ-উলঙ্গ বুঝায় তাহলে তো আদিম যুগের মানুষ পুরোপুরি আধুনিক ও সভ্য ছিল! কারণ তারা সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়াত। অথচ তাদেরকে অসভ্য-বর্বর বলা হয়! রাস্তা-ঘাটের উলঙ্গ পাগলা-পাগলিকেও তো তাহলে পুরোপুরি আধুনিক ও সভ্য বলতে হয়! কিন্তু সেটা তো কেউই মেনে নেবে না! পোশাক-পরিচ্ছদ হচ্ছে মানব সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি। মানুষ আর পশুর মধ্যে মৌলিক দুটি পার্থক্য হচ্ছে, সত্য-মিথ্যা বা ভাল-মন্দ বিচারের ক্ষমতা এবং পোশাক-পরিচ্ছদ। এই দুটি মৌলিক পার্থক্য ছাড়া মানুষ আর পশুর মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই।

যাহোক, কোরআনে প্রচলিত বোরখার সরাসরি কোন ইঙ্গিত নেই (২৪:৩০-৩১, ৩৩:৫৯)।

হিজাবের ক্ষেত্রে অবশ্য মুসলিম স্কলারদের মধ্যে দ্বিমত আছে। বেশীরভাগ স্কলার কোরআনের আলোকে হিজাবকে সমর্থন করেন। তবে কোরআনে নারীদের পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে স্বাধীনতা ও নমনীয়তা রাখা হয়েছে, যেটা দেশ-কাল-পাত্র ভেদে কিছুটা পরিবর্তনশীল হতে পারে। মজার বিষয় হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষ সহ প্রায় সকল ইমাম-মৌলভি-মুন্সিরাও কিন্তু বোরখা-হিজাব এর মতো পোশাক পরিধান করে। অথচ কেউই কিন্তু তাদেরকে নির্যাতিত-নিপীড়িত বলে না! এমনকি নারীদেরকে যে উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের পর্ণগ্র্যাফি ব্যবসা করা হচ্ছে–তার বিরুদ্ধেও টু-শব্দটি পর্যন্ত করা হয় না। গোঁড়া সমালোচকদের দৃষ্টি শুধুই মুসলিম নারীদের পোশাকের দিকে। পোশাক-পরিচ্ছদ হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার। সেই ব্যক্তিগত পছন্দ যে কীভাবে মানুষকে নির্যাতিত-নিপীড়িত করে–সেটা কিন্তু কোনভাবেই মাথায় আসে না। মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা কুরুচির পরিচায়ক। যারা এমন উদ্ভট অপপ্রচার চালায় তাদের অসৎ কোন উদ্দেশ্য আছে।

শারীরিক গঠনের ভিন্নতার কারণে কোরআনে নারীদেরকে কিছুটা বেশী সতর্ক করা হয়েছে মাত্র। অন্যথায় নারী-পুরুষ উভয়কেই শালীন পোশাকের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়কেই সততা ও শালীনতা রক্ষার উপরই বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে (৭:২৬-২৮, ২:২৬৮, ১৭:৩২)।

এ প্রসঙ্গে কোরআন আরো বলে: তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম (৭:২৬); তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন রকম সংকীর্ণতা আরোপ করেননি (২২:৭৮); দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই (২:২৫৬)।