নারীকে রাস্ট্রের শাসক

কোরআনে নারী জাতিকে রাস্ট্রের শাসক হওয়া নিষিদ্ধ করেছে!

জবাব:

পবিত্র কোরআন নারী নেতৃত্বের প্রতিকূলে কোন কথায় বলেনি বরং নারী যে রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারেন তার অনুকূলে অনুমোদন দিয়েছে। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআন থেকে সংশ্লিষ্ট কিছু আয়াত উদ্বৃত করছি।

(২৭ সূরা নামল আয়াত ১৬-১৭)
”আর দাউদের উত্তরাধিকারী হল সুলাইমান। সে বলল! “হে লোকেরা! আমাকে পাখির ভাষা শিখানো হয়েছে এবং আমাকে সব রকমের জিনিসই দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা (আল্লাহর) সুস্পষ্ট অনুগ্রহ। আর সুলাইমানের জন্য জ্বিন, মানুষ ও পক্ষীকুলের সেনাবাহিনী একত্রিত করা হয়েছিল এবং এদের সকলকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখা হত।”

(২৭ সুরা নামল আয়াত ২০-২৪)
“(একদিন) সুলামান পাখিদের অবস্থা সম্পর্কে খোজ-খবর নিল এবং বলল ঃ ব্যাপার কি! আমি অমুক হুদহুদকে দেখতে পাই না কেন, সে কি কোথাও উধাও হয়ে গেছে? আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিব কিংবা জবেহ করব। নতুবা তাকে আমার নিকট যুক্তি সংগত কারণ দর্শাতে হবে। কিছু সময় অতিবাহিত হতেই সে (হুদহুদ) এসে বলল! “আমি এমন সব তথ্য লাভ করেছি, যা আপনার জানা নেই। আমি ‘সাবা (রাজ্য) সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নিয়ে এসেছি। আমি যেখানে একজন মহিলা দেখেছি, সে এই জাতির শাসনকর্ত্রী। তাকে সর্বপ্রকার সাজ-সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে আর তার সিংহাসন বড়ই মর্যাদাপূর্ণ। আমি দেখলাম যে, সে এবং তার জাতির লোকেরা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যের সামনে সিজদায় অবনত হয়। শয়তান তাদের কাজ কর্মকে তাদের জন্য চাকচিক্যময় বানিয়ে দিয়েছে। এবং তাদেরকে প্রকৃত রাজপথ হতে বিভ্রান্ত করে রেখেছে। এই কারণে তারা সোজা পথটি পায় না।”

(২৭ সুরা নামল আয়াত ২৭-৩৪) “সুলাইমান বলল, “আমি এখনই (পরীক্ষা করে) দেখব, তুই সত্য বলেছিস না মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। আমার এই চিঠি নিয়ে যা এবং একে সেই লোকদের নিকট নিক্ষেপ কর; তারপর আলাদা হয়ে সরে দাড়া এবং লক্ষ্য কর, তারা কিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। সম্রাজ্ঞী বলল ঃ হে সভাসদ বৃন্দ! আমার নিকট এক বিরাট গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পৌঁছেছে। এটা সুলাইমানের নিকট হতে এসেছে এবং দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে শুরু করা হয়েছে। এই চিঠিতে বলা হয়েছে ঃ আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো না এবং মুসলিম হয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও। (চিঠি শুনিয়ে) সম্রাজ্ঞী বলল ঃ হে জাতির সরদারগণ! এই সমস্যাটির ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দাও; আমি তো তোমাদের সাথে পরামর্শ না করে কোন ব্যাপারেই ফায়সালা গ্রহণ করি না। তারা জবাব দিলঃ আমরা বড়ই শক্তিশালী এবং লড়াই সংগ্রামে বিশেষ দক্ষ। এখন ফায়সালা গ্রহণের ব্যাপারটি আপনার উপর নির্ভরশীল; এ ব্যাপারে কি আদেশ দান করবেন, তা আপনিই ভেবেন দেখুন! সম্রাজ্ঞী বলল ঃ বাদশাহ (সুলাইমান) যখন কোন (অবাধ্য) দেশে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত ও উহার সম্মানিত লোকদিগকে লাঞ্চিত ও অপমানিত করে; তারা এইরূপই করে থাকে।”

(২৭ সুরা নামল আয়াত ৪৪)
”(শেষ পর্যন্ত সম্রাজ্ঞী যখন সুলাইমানের দরবারে পৌঁছাল) তাকে বলা হল ঃ প্রসাদের ভিতর প্রবেশ কর। সে দৃষ্টিপাত করার সঙ্গে সঙ্গে মনে করল সামনের বুঝি পানির হাউস। তাতে নামার জন্য সে পায়ের গোড়ালির দিকের কাপড় উত্তোলন করল। সুলাইমান বললঃ এটা তো কাঁচের স্বচ্ছ মেঝে। এ শুনে সম্রাজ্ঞী চিৎকার করে বললঃ হে আমার রব! (আজ পর্যন্ত) আমি আমার নিজের উপর বড়ই জুলুম করে এসেছি। এখন আমি সুলাইমানের সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্য কবুল করলাম।”

সম্রাজ্ঞীর প্রসাদের তুলনায় সুলাইমান (আঃ) এর প্রাসাদ অধিক জাঁকজমক পূর্ণ ছিল। ইসলাম কাউকে জাকজমকপূর্ণ জীবনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে না যদি সে মহান আল্লাহর প্রকৃত আনুগত্য করে। যাহোক উপরের পবিত্র আয়াতসমূহ যদি পর্যালোচনা করা যায় তাহলে এটা স্পষ্টতই প্রতিয়মান হয় যে, হযরত সুলাইমান (আঃ) যখন অবগত হলেন যে বিলকীস রানী ও তার জাতি মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে সূর্যের উপাসনা করে তখন তিনি ভীষণভাবে ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং রানী বিলকিসকে দূত মাধ্যমে হুকুম দিয়েছিলেন যেন সে মুসলিম হয়ে (আল্লাহর আনুগত্যে আত্মসমর্পণকারী হয়ে) তাঁর (সুলাইমান আঃ) দরবারে হাজির হন। সুলাইমান (আঃ) এর এ ব্যাপারে কোন আগ্রহ বা মাথা ব্যাথার কারণ ছিল না যে উক্ত সাম্রাজ্ঞ্যের শাসক একজন মহিলা। আবার রাণী বিলকীস মুসলিম হওয়ার পর সুলাইমান (আঃ) তাকে ঐ রাজ্যের শাসকের পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন এমন কথা পবিত্র কোরআন বলছে না; বিষয়টা যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ কাজেই সুলাইমান (আঃ) যদি রানী বিলকীসকে বরখাস্ত করতেন তবে মহান আল্লাহ অবশ্যই তা পবিত্র কোরআন উল্লেখ করতেন।

প্রকৃতিগত কারণেই নারীরা আসলে পুরুষের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল জাতি এবং তাদের কাজের ক্ষেত্রও আলাদা (যেমন সন্তান গর্ভধারণ, লালনপালন ইত্যাদি)। তাইতো দেখা যায় পাশ্চাত্য সভ্যতায় নারী পুরুষের সমান নাগরিক অধিকার ইত্যাদি হওয়া সত্ত্বেও সামান্য কিছু নারী ব্যতীত কেউই পুরুষের সমান বৈষয়িক ব্যাপারে যোগ্য নয়। যেমন হাতে গোনা কয়েকজন নারী বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাইতো স্বাভাবিক কারণেই মুসলিম অমুসলিম সব সমাজেই পুরুষের আধিপত্য সুস্পষ্ট। তবে রাণী বিলকিস, মাদামকুরী (দু’বার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত ; একবার পদার্থ বিজ্ঞানে আরেকবার রসায়ন বিজ্ঞানে যা নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ইতিহাসেও বিরল ঘটনা) মার্গারেট থ্যাচার প্রমুখ শ্রেণীর নারীরা শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণেই রাষ্ট্রের শাসক হতে পারবেন না এটা মহান আল্লাহর বিধান নয়।

hits